Posted on

নারী যৌনাঙ্গের না বলা সমস্যাসমূহের সঠিক যত্নে করণীয়

নারীর বহিঃযৌনাঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে ব্যাকটেরিয়া ও ঈস্টের(ছত্রাক) মতো অসংখ্য অণুজীব উপস্থিত থাকে। শরীরের ত্বকের মতো, এইসব অণুজীব ও ব্যাকটেরিয়ার একটি নির্দিষ্ট সমন্বয় যৌনাঙ্গের স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখতে সাহায্য করে। অনুজীবগুলি, যোনির ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিহত করে এবং পিএইচ (অম্লত্ব ও ক্ষারত্বের স্থিতাবস্থা) নিয়ন্ত্রণ করে। যখন এই অণুজীবগুলোর মধ্যে ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি হয়, তখন তা ঈস্ট সংক্রমণ, ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিস (যোনিপথে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ) প্রভৃতি রোগের সৃষ্টি করে থাকে। সেই সাথে, নারীরা তাদের সঙ্গীদের মাধ্যমেও বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণে আক্রান্ত হতে পারেন। এইসব কারণে নারীর জননাঙ্গের নিবিড় যত্ন নেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১. বাথরুম করার এবং স্যানিটারি প্যাড পরিবর্তনের আগে ও পরে হাত ভালো করে ধুয়ে নিন। ভালো মানের ব্যাকটেরিয়া নাশক হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে অন্তত ১ মিনিট হাত ভালো করে ধুয়ে নিন।

২. যোনিপথ সাবান দিয়ে পরিষ্কার করা থেকে বিরত থাকুন। সুবাসিত ও সুগন্ধী পন্য ব্যবহার করে মহিলারা প্রায়ই অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়ার শিকার হোন যা ছত্রাক সংক্রমণের সৃষ্টি করে। যৌনাঙ্গ পরিষ্কার করতে নিয়ন্ত্রিত অম্ল ও ক্ষারযুক্ত (PH balanced) ক্লীনজার ব্যবহার করুন। যদি তা না পাওয়া যায়, তাহলে খুব মৃদু সাবান ব্যবহার করুন। দিনে একবারের অধিক সাবান দিয়ে ধোয়া উচিৎ নয়। বেশী বেশী সাবান দিয়ে ধোয়া বা অপরিমিত অম্ল বা ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার অণুজীবের ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে এবং তাতে সংক্রমণের সৃষ্টি হয়।

৩. পানি দিয়ে ধোয়ার পর টিস্যু দিয়ে শুকিয়ে নিন। ধর্ম, সংস্কৃতি নির্বিশেষে সকল নারীদের এটা অনুধাবন করা গুরুত্বপূর্ণ যে বাথরুমে গিয়ে শুধুমাত্র যৌনাঙ্গ মোছা মানেই পরিষ্কার করা নয় বরং প্রথমে পানি দিয়ে ধোয়া এবং পরে টিস্যু দিয়ে শুকিয়ে নেয়াটা সঠিক।

৪. প্রেসক্রিপশন ছাড়া কখনোই দীর্ঘ সময়ের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক ঔষধ গ্রহণ করবেন না। কারণ এতে সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়াগুলোকে অ্যান্টিবায়োটিক ধ্বংস করে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণের পথ সুগম করে দেয়।

৫. বাথটাব এর পরিবর্তে ঝর্না ব্যাবহার করে গোসল করা ভাল। বাথটাবে পানি, বিশেষ করে গরম পানি যোনির চারপাশে দীর্ঘ সময়ের জন্য জমে থাকে এবং তা ক্ষতিকারক ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যাবৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৬. সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করুন এবং তলদেশে আঁটসাঁট কাপড় পরা থেকে বিরত থেকে ঢিলেঢালা কাপড় পড়ুন। কৃত্রিম উপাদানে তৈরি আঁটসাঁট কাপড় এবং জিন্স বাতাস রোধ করে রাখে। শরীরের নিচের দিকের পোষাকের মধ্যে বাতাস প্রবাহিত হওয়া অত্যন্ত জরুরী কেননা তা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে।

৭. রজঃস্রাব চলমান অবস্থায় না থাকলে প্যাড পরে রাখবেন না। কৃত্রিম উপাদান দীর্ঘ সময় শরীরের সাথে যুক্ত রাখলে তা বারবার সংক্রমণ ও জ্বালার সৃষ্টি করবে। যদি আপনার ত্বক খুবই সংবেদনশীল হয়ে থাকে, তাহলে পুরোনো বিছানার চাদর কিংবা কোনো সুতির কাপড় কেটে তা দিয়ে প্যাডের উপরের অংশ আবৃত করে ব্যবহার করুন। এতে করে ত্বক প্যাডের সংস্পর্শে আসবে না এবং অ্যালার্জি সৃষ্টি করবে না।

৮. ভালো বা সাহায্যকারী ব্যাকটেরিয়া পাওয়ার জন্য প্রোবায়োটিক (উপকারী) খাবার যেমন – দই খাওয়া উপকারী।

৯. প্রতিদিন জননাংগ ধোয়ার জন্যে সাবানের উত্তম বিকল্প হলো ৩% ভিনেগার ও পানির দ্রবণ অথবা ২ লিটার পানির সাথে অর্ধেক লেবুর রস মিশ্রিত তরল। সাবান ব্যবহার যোনির স্বাভাবিক অ্যাসিডযুক্ত পিএইচকে অ্যালকালিনে রূপান্তরিত করে দিতে পারে যা ক্ষতিকর জীবানু বৃদ্ধির সহায়ক।

যোনিপথে সংক্রমণঃ যোনিপথ শুকিয়ে যাওয়া, বিবর্ণ হওয়া বা ফেটে যাওয়া পরিলক্ষিত হলে অথবা যৌন মিলনের সময় ব্যথা হলে সংক্রমণ সন্দেহ করা যেতে পারে। প্রস্রাবের সময় অথবা তলপেটে ব্যথা হতে পারে। যোনির ভেতরের আবরন ও অভ্যন্তর স্বাভাবিক অবস্থায় স্যাঁতস্যাঁতে, গোলাপি রংযুক্ত এবং এক ধরনের ঘন তরলের হালকা আবরনে ছাওয়া থাকে। এরকম না থাকলে শুকিয়ে গিয়ে সংক্রমণের সৃষ্টি করতে পারে যা পরবর্তীতে ক্যান্সারের কারণ হয়ে দাঁড়া্তে পারে।  এরকম কোনো সমস্যা পরিলক্ষিত হলে লজ্জা না করে দ্রুত গাইনী ডাক্তারের শরনাপন্ন হবেন।

উল্লেখ্য, ভ্যাজেনাইল টাইটেনিং জেল যোনিকে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ থেকে নিরাপদ রাখার পাশঅপাশি যোনিকে টাইট করতেও ভুমিকা পালন করে।

Posted on

বিয়ের আগে মেয়েদের যোনির যত্নে করণীয়

বিয়ের আগে প্রত্যেকটি মেয়েকেই সঠিকভাবে তার যোনির যত্ন নিতে হবে আর মেয়েরা অবহেলা করে যোনির যত্ন না নেয়া হলে শারীরিক নানান সমস্যার শিকার হয় কিংবা নিজেও অনেকটা হীনমন্যতা অনুভব করেন ।

এই ব্লগটিতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ কিছু টিপস তুলে ধরব যোনির যত্নে বিষয়ে। এ্ই টিপসগুলোর মাধ্যমে আশা করি খুব সহজেই বিয়ের পূর্বে আপনার যোনির যত্ন নিতে পারবেন।

একজন কুমারী মেয়েকে অবশ্যই বিয়ের পূর্বে নিজের যোনিকে ভালভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। মনে রাখতে হবে, যোনিতে কোনভাবে ইনফেকশন হলে সেটা থেকে নানা রকম জটিল সমস্যা হতে পারে।

বিয়ের আগে অনেকেই রয়েছেন যারা সবসময় পেন্টি ব্যবহার করে থাকেন। আসলে সবসময় পেন্টি ব্যবহার করলে আপনার যোনি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই গুরুত্বপূর্ণ সময় ব্যতীত প্যান্টি ব্যবহার না করাই উত্তম ।

মাসিকের সময় অবশ্যই যোনির যত্ন নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন যোনি যেনো ভেজা না থাকে। কারণ এতে যোনিতে নানা ধরনের সংক্রমন দেখা যেতে পারে ।

এছাড়াও মেয়েরা যোনির উপরিভাগের পশম কাটার ক্ষেত্রে অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের ক্রিম ব্যবহার করে থাকেন। যার ফলে যোনিতে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং যোনি কালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তো অবশ্যই আপনি ক্রিম গুলো এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন ।

এছাড়াও আপনার যোনিতে যদি কোনো প্রকার ইনফেকশনের রোগব্যাধি দেখা দেয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা গ্রহণ করবেন এবং সুস্থ থাকবেন।

যোনির যত্নে, ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে এমনকি যোনিপথ টাইট রাখতে ভেজাইনাল টাইটেনিং জেল উপকারী হতে পারে আপনার জন্য। ভেজেনাইল টাইটেনিং জেল সম্পর্কে জানতে ভিজিট করতে পারেন https://nutriyana.com/

আমাদের এই আর্টিকেলটিতে আমরা মেয়েদের বিয়ের পূর্বে কিভাবে জনি এর যত্ন নিবেন সে বিষয়ে যে তথ্যগুলো তুলে ধরেছি আশা করি এগুলো সঠিকভাবে অনুসরণ করার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই আপনার যোনি এর যত্ন নিতে পারবেন ।

Posted on

আপনার বিশেষ অঙ্গের যত্ন নেবেন যেভাবে

সাধারণত প্রতিটি নারী নিজের প্রতি খুবই যত্নশীল হযয়ে থাকে। নিজের চুল, ত্বক ভাল রাখতে রূপচর্চা যেমন করেন, ঠিক তেমনি স্লিম থাকতে ব্যায়ামও করে থাকেন। তবে নিজের প্রতি এমন যত্নবান অনেক নারীও পিরিয়ডের সময় এবং সাধারণ সময়গুলোতে যোনির সঠিকভাবে তেমন যত্ন নেন না।

কিন্তু আপনাকে মনে রাখতে এটি নারী দেহের বিশেষ একটি অঙ্গ। যোনি সংক্রমণের জেরে একজন নারী অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই এখনই সচেতন হোন। আসুন জেনে নেই কীভাবে নিজের শরীরে বিশেষ অংশ যোনির যত্ন নেবেন।

পরিষ্কার রাখুন

প্রতিদিন গোসল করার সময় ভাল করে যোনি ধুয়ে নিন। পরিষ্কার পানি ব্যবহার করবেন। চাইলে ভি-ওয়াশ জাতীয় লোশন ব্যবহার করতে পারেন। পরে নরম তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে মুছে নেবেন। খসখসে কাপড় ব্যবহার করবেন না।
 

সুতির অন্তর্বাস

গরমে যোনি খুব ঘামে। ঘাম জমে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হয় এবং যোনিতে সংক্রমণ হওয়ার ভয় থাকে। এই সমস্যা এড়াতে সুতির অন্তর্বাস ব্যবহার করতে পারেন।

বডি স্প্রে

যোনির স্বাভাবিক একটা গন্ধ আছে। এই গন্ধ ঢাকতে ডিও বা বডি স্প্রে ব্যবহার করবেন না। এর ফলে যোনির ত্বক লাল হয়ে ফুলে উঠতে পারে এবং চুলকুনি হতে পারে।

খাবার

আপেল, অ্যামন্ড, অ্যাভোকাডো, দই ইত্যাদি খেলে যোনিতে সংক্রমণ কম হয়। পাশাপাশি, সারাদিনে প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। ভাজাভুজি, বাইরের মশলাদার খাবার, জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন।

ডিসচার্জ

যোনি থেকে সাদা পানির মতো বা হালকা হলুদ রঙের ডিসচার্জ হওয়া স্বাভাবিক। যোনির ভিতর জমে থাকা জীবাণু এই উপায়ে শরীর বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু, যদি অন্য রঙের ডিসচার্জ হয়, যদি তা ঘন আঠার মতো চটচটে হয়, সঙ্গে তীব্র দুর্গন্ধ থাকে কিংবা যন্ত্রণা হয়, তা হলে অবশ্যই ডাক্তার দেখাবেন।

শারীরিক সম্পর্ক

শরীরিক সম্পর্কের সময় কনডম ব্যবহার করা ভালো। কনডম বিভিন্ন যৌনরোগও প্রতিরোধ করে। এছাড়া শরীরিক সম্পর্কের পরবর্তী সময়ে যোনি পরিষ্কার রাখুন। যোনিকে টাইট রাখতে শারিকি সম্পর্কের ঘন্টাখানেক পরে ভ্যাজেনাইল টাইটেনিং জেল ব্যবহার করতে পারেন।

প্যাড বদলান

পিরিয়ডের সময় দিনে অন্তত তিন থেকে চারবার প্যাড বদলান। পিরিয়ডের সময় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ভয় বেশি থাকে। সারাদিন একটা প্যাড পরে থাকলে ভিজে জায়গায় ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। ভ্যাজেনাইল টাইটনিং জেলও যোনিকে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ থকে প্রটেক্ট করে।

ট্রিম বা শেভ করুন

যোনির চুল বড় হয়ে গেলে ট্রিম করে ফেলুন বা শেভ করুন। এর ফলে যোনি পরিষ্কার রাখতে সুবিধা হবে, সংক্রমণের আশঙ্কাও কমবে। কিন্তু, এখানে কোনও হেয়ার রিমুভিং ক্রিম ব্যবহার করবেন না।

অনেকদিন ধরে যোনিতে চুলকানি বা ব্যথা হলে, ঘন আঠার মতো চটচটে ডিসচার্জ বেরোলে, কোনও স্ফীতি দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।